মোঃ সবুজ মিয়া, শ্রীপুর (গাজীপুর):
বাপ-দাদার নামে বৈধ রেকর্ড এবং মালিকানা থাকার পরও কেবল সরকারি গেজেটভুক্ত হওয়ার অজুহাতে গাজীপুরের শ্রীপুরে সাধারণ জমির মালিকেরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গেজেটভুক্ত জমিতে বসতবাড়ি বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই বন বিভাগ (ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট) ও কিছু অসাধু সংবাদকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটকে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা দিলে অবৈধ স্থাপনাও রাতারাতি বৈধ হয়ে যায়, আর টাকা না দিলে উচ্ছেদ ও মামলার হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ জনগণ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বহু জমি সাধারণ মানুষের নামে আরএস, এস এ, সিএস খতিয়ানভুক্ত এবং বছরের পর বছর তারা খাজনা-খারিজ দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারের গেজেটের কারণে এসব জমির একটি বড় অংশ গেজেটভুক্ত বা খাস জমির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই আইনি জটিলতাকে পুঁজি করেই এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো সাধারণ নাগরিক যখন নিজের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বা কেনা জমিতে (যা গেজেটভুক্ত) মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি বাড়ি নির্মাণ করতে যান, তখনই হাজির হয় এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রথমে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মামলা ও উচ্ছেদের ভয় দেখায়। এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হয় স্থানীয় কিছু নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তি। তারা ‘মিটমাট’ বা ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার নামে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নিজস্ব রেকর্ডীয় জমি হওয়া সত্ত্বেও গেজেটের দোহাই দিয়ে ঘর তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। লাখ টাকা দিলে ফরেস্ট অফিসার, আর তথাকথিত সাংবাদিকরা সব চুপ হয়ে যায়। তখন আর জমি সরকারি থাকে না। আর টাকা না দিলে ঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, মামলার ভয় দেখানো হয়। আমরা নিরুপায় হয়ে ধার-দেনা করে এদের টাকা দিচ্ছি।
সচেতন মহল মনে করছেন, এই অবৈধ লেনদেনের কারণে সরকারের খাতায় কোনো রাজস্ব জমা হচ্ছে না। সমস্ত টাকা চলে যাচ্ছে অসাধু কর্মকর্তা এবং নামধারী সাংবাদিকদের পকেটে। যেখানে নিয়মানুযায়ী সরকারের রাজস্ব পাওয়ার কথা, সেখানে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অসৎ চক্রটি।
এই চাঁদাবাজির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃএস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সাহেব এর সহযোগীতা কামনা করেন এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রীপুরের সাধারণ জনগণ।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..