Logo
প্রিন্টের তারিখ: 06 June 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jun 6, 2026

সংবাদ শিরোনাম : মোল্লাহাটে জোরপূর্বক শালিস,মারধর ও ৪৫ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

মোল্লাহাটে জোরপূর্বক শালিস,মারধর ও ৪৫ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ
আল হাফিজ মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কদমতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক যুবককে মারধর করে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে পাশের ঘরের এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হৃদয় (২৪) এবং একই প্রকল্পের এক কিশোরী (১৪)-এর মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। বুধবার রাত ৮টার দিকে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি হৃদয়কে আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাকে মারধর করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে রাতেই একটি শালিস বৈঠক বসানো হয়।
ভুক্তভোগী যুবকের পরিবারের অভিযোগ, শালিসে প্রথমে দুই লাখ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। পরে তা এক লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাধ্য হয়ে ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হয়েছে বলে দাবি করেন যুবকের মা। তিনি আরও জানান, রাত ২টা পর্যন্ত রফা-দফার আলোচনা চলে।
প্রতিবেশী শারমিন বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনায় শুধু যুবককেই দোষারোপ করে মারধর ও জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকেও বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সেক্রেটারি কালাম বলেন, বিষয়টি স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে এবং ৪৫ হাজার টাকায় সমাধান হয়েছে।
এদিকে সচেতন মহলের অনেকে এ ধরনের ঘটনার শালিসের মাধ্যমে অর্থদণ্ড আরোপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। বিশেষ করে ঘটনায় একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের ঘটনার নিষ্পত্তি আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারীঃ নির‌পেক্ষ দর্পণ
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF