মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) ফরিদপুর:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিখোঁজের দুইদিন পর তৌহিদ মিয়া নামে এক যুবকের মরা দেহ পাট ক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরা দেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যোর সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে তার মরা দেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তৌহিদ মিয়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ছেলে। তিনি একটি জাহাজে চাকরি করতেন। ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে কয়েক দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে আসেনি তৌহিদ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটাও বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক পাট খেতে কাজ করতে গিয়ে একটি মরা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে তৌহিদকে শনাক্ত করে পুলিশের খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার রাত ১২ টার পর থেকে তৌহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ির সহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজখবর করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার কিছু মাদক সেবী বন্ধুর সঙ্গে চলাফেরা ছিল। আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি চাই।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মরাদেহটি পাট ক্ষেতের মধ্যে পড়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিড় করেন। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার স্থান থেকে মরা দেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরাদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..