আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মাধবদী মেহের পাড়ায় মেম্বার প্রার্থী বাছেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার; সংবাদ সম্মেলনে হত্যা হুমকির অভিযোগ সুজনের ঝালকাঠি জেলা কমিটি গঠন, সভাপতি ফরহাদ সম্পাদক ইসমাঈল ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত উখিয়ায় দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এলিট ডেন্টাল কেয়ার চট্টগ্রামের খুলশীতে সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ,আহত ৩ চট্টগ্রামে মন্দির দখলকে কেন্দ্র করে ইসকন ও সাধারন সনাতনীদের সংঘর্ষ, আহত ৪ হাপানিয়া ইউনিয়নে পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগে ছিনতাই প্রতিরোধ, দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার পুকুরে বিষ দিয়ে অর্ধকোটি টাকার মাছ নিধন মৌলভীবাজারে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ১৭ আসামি গ্রেপ্তার ভাঙ্গুড়ায় ইয়াবাসহ আটক যুবকের ৯০ দিনের কারাদণ্ড শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের গরীব অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের পাশে আছেন সবুজ সরকার বৃক্ষরোপণ ও পদযাত্রা মধ্য দিয়ে পালিত হল- বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ওসমানীনগর প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীতে পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড:মূল হোতা রতনসহ গ্রেফতার ৬, এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন নওগাঁয় পত্নীতলা ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
Banner Advertisement

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের করণীয় লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

প্রতিবেদকের তথ্য : নিরপেক্ষ দর্পণ ডেস্ক
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 46
ছবির ক্যাপশন :

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির নাম মাদকাসক্তি। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকের বিস্তার আজ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধি জাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদক এমন এক নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষকে মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসের মতো মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। এর ফলে চুরি, ছিনতাই, হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একটি মাদকাসক্ত সমাজ কখনো উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। কারণ মাদক মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, নৈতিকতা ধ্বংস করে এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি করে। তাই মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মাদকাসক্তির পেছনে বেকারত্ব, হতাশা, পারিবারিক অশান্তি, খারাপ সঙ্গ, কৌতূহল এবং সামাজিক অবহেলাসহ নানা কারণ কাজ করে। অনেক তরুণ বন্ধুদের প্ররোচনায় বা সাময়িক আনন্দের আশায় মাদক গ্রহণ শুরু করলেও পরে তা ভয়াবহ আসক্তিতে পরিণত হয়। ফলে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদক প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন থাকা এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা। একটি সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ সন্তানকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। মাদককে ফ্যাশন বা আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন না করে এর ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরতে হবে। ইতিবাচক ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট তরুণদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজের সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা ও যুবসমাজকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক ব্যবসায়ী শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের শত্রু।

ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে অপরাধ ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। ইসলামসহ সব ধর্মেই মাদককে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সরকারের দায়িত্ব হলো সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ করি— মাদককে না বলব, সচেতনতা বৃদ্ধি করব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি) কেন্দ্রীয় কমিটি,যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটি
৭০ কাকরাইল, ঢাকা।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
Banner Advertisement
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
Banner Advertisement